তরল হয় কোন বন্ধনীর কারনে?
-
ক
হাইড্রোজেন বন্ধনী
-
খ
ধাতব বন্ধনী
-
গ
সমযোজী বন্ধনী
-
ঘ
আয়নিক বন্ধনী
H₂O তরল শুধুমাত্র এর হাইড্রজেন বন্ধনের কারণে (F, O, N এর ক্ষেত্রে H বন্ধন সম্ভব)
পানি তরল হয় হাইড্রোজেন বন্ধনের কারণে।
পানির অণুতে, একটি অক্সিজেন পরমাণু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এই বন্ধনগুলি পোলার হয়, অর্থাৎ অক্সিজেন পরমাণুতে একটি নেতিবাচক চার্জ থাকে এবং হাইড্রোজেন পরমাণুতে একটি ধনাত্মক চার্জ থাকে।
এই চার্জের পার্থক্য হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করে, যা একটি দুর্বল আকর্ষণীয় শক্তি যা এক পানি অণুর হাইড্রোজেন পরমাণুকে অন্য পানি অণুর অক্সিজেন পরমাণুর সাথে আবদ্ধ করে।
হাইড্রোজেন বন্ধনগুলি পানিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় তরল করে তোলে। তরল অবস্থায়, পানি অণুগুলি একে অপরের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ থাকে, যা তাদের একসাথে ধরে রাখে।
যদি হাইড্রোজেন বন্ধনগুলি না থাকত, তাহলে পানি একটি বায়বীয় পদার্থ হত।
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
মৌলিক পদার্থসমূহকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর সময় তাদের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মগুলোর একটি পর্যায়বৃত্ত ধারা লক্ষ্য করা যায়। এ ধারা মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরাবৃত্তি করে। মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- আয়নিক ব্যাসার্ধ ও পরমাণুর আকার
পরমাণুর আকার একটি গ্রুপে নিচের দিকে গেলে বৃদ্ধি পায়, কারণ ইলেকট্রন শেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে, একই পর্যায়ের মৌলগুলোতে বাম থেকে ডানে যাওয়ার সময় পরমাণুর আকার কমে, কারণ নিউক্লিয়ার আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। - আয়নন শক্তি
আয়নন শক্তি হল ইলেকট্রন সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি। একই পর্যায়ের মৌলগুলোর মধ্যে বাম থেকে ডানে যাওয়ার সময় আয়নন শক্তি বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুর আকার ছোট হয় এবং নিউক্লিয়ার আকর্ষণ বেশি থাকে। - ইলেকট্রন প্রবণতা ও তড়িৎঋণাত্মকতা
একটি মৌল অন্য মৌল থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতাকে ইলেকট্রন প্রবণতা বলে। তড়িৎঋণাত্মকতা একটি রাসায়নিক বন্ধন গঠনের সময় ইলেকট্রন ধরে রাখার ক্ষমতা। একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে যাওয়ার সময় তড়িৎঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়।
রাসায়নিক বন্ধনের সাথে সম্পর্ক
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্মের ভিত্তিতে রাসায়নিক বন্ধনের প্রকৃতি এবং শক্তি ব্যাখ্যা করা যায়। মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস এবং তড়িৎঋণাত্মকতার পার্থক্যের ভিত্তিতে তাদের রাসায়নিক বন্ধনের ধরন ভিন্ন হয়।
- আয়নিক বন্ধন
তড়িৎঋণাত্মকতার মধ্যে বেশি পার্থক্য থাকলে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়। যেমন, ধাতু এবং অধাতুর মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠন হয়, কারণ ধাতু ইলেকট্রন দান করে এবং অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে। - অযোজনীয় বন্ধন (Covalent Bond)
সমান বা কাছাকাছি তড়িৎঋণাত্মকতা থাকা মৌলগুলো অযোজনীয় বন্ধন গঠন করে। এখানে ইলেকট্রন শেয়ারিং হয়। - ধাতব বন্ধন
ধাতুর পরমাণুগুলো তাদের বহিঃস্থ ইলেকট্রন একটি মুক্ত ইলেকট্রন সাগরে অবদান রাখে, যা ধাতব বন্ধন তৈরি করে। - আণবিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
ইলেকট্রন বিন্যাস এবং আয়নন শক্তি একটি মৌলের আণবিক গঠনের প্রভাব ফেলে। এটি রাসায়নিক বন্ধনের শক্তি ও গঠন নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চ তড়িৎঋণাত্মক মৌলগুলো সাধারণত মেরু বন্ধন গঠন করে।
সারসংক্ষেপ
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম এবং রাসায়নিক বন্ধনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যায় সারণির প্রতিটি মৌলের বৈশিষ্ট্য থেকে তাদের রাসায়নিক বন্ধনের প্রকৃতি নির্ধারণ করা যায়। এর মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ধরন এবং আণবিক গঠনের বিশ্লেষণ সহজ হয়।
Related Question
View Allএ H-S-H বন্ধন কোণের মান কত?
-
ক
-
খ
-
গ
-
ঘ
বরফের মধ্যে কি কি বন্ধন থাকে?
-
ক
আয়নিক ও সমযোজী
-
খ
আয়নিক ও ভ্যানডার ওয়ালস সমযোজী
-
গ
সমযোজী ও হাইড্রোজেন
-
ঘ
হাইড্রোজেন ও সন্নিবেশ
এ Cu এবং এর মধ্যে কোন ধরনের বন্ধন বিদ্যমান?
-
ক
ধাতব
-
খ
আয়নিক
-
গ
সন্নিবেশ
-
ঘ
সমযোজী
কোন যৌগটি অধিক সমযোজী?
-
ক
-
খ
-
গ
-
ঘ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন